ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইয়াজদে ইউরেনিয়াম কেন্দ্রে ইসরায়েলের হামলা, চড়া মূল্য আদায়ের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ থামাতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের চেষ্টার মধ্যেই মধ্যাঞ্চলীয় ইরানি শহর ইয়াজদে একটি ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তাদের এ পদক্ষেপ সংঘাতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।


শুক্রবার ২৭ মার্চ ছিল সংঘাতের ২৮তম দিন, এবং ইসরাইলি বাহিনীর এসব হামলা ছিল ইরানজুড়ে বিভিন্ন স্থাপনায় তাদের ব্যাপক হামলার অংশ। এতই দিনে মধ্য ইরানের খোন্দাব ভারী পানি কেন্দ্রে হামলার পাশাপাশি খুজেস্তান ও ইস্পাহানে দুটি বড় ইস্পাত কারখানায়ও হামলা হয়েছে। তেহরানের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, কাশান ও আহভাজ শহরেও হামলা হয়েছে। কোম শহরে নিহত হয়েছে ১৮ জন। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী বলেছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় অতি প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আহরণে ব্যবহৃত একটি কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। একে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর একটি ‘অনন্য স্থাপনা’ বলেও অভিহিত করেছে তারা।


ইরানের আনবিক শক্তি সংস্থা কেন্দ্রটিতে হামলা হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তেজস্ক্রিয়তাও ছড়িয়ে পড়েনি, বলেছে ইরানি সংস্থাটি। বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হওয়ারও খবর দিয়েছে তারা। তবে তাতে ‘কোনো প্রাণহানি, আর্থিক বা কারিগরি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি’, ভাষ্য আনবিক শক্তি সংস্থার।


এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার জন্য ইসরায়েলের কাছ থেকে ‘চড়া মূল্য আদায় করে নেওয়া হবে’ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এরোস্পেস কমান্ডার সৈয়দ মাজিদ মুসাভি ‘সংঘাত নতুন মোড় নিচ্ছে’ জানিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সমীকরণ আর ‘চোখের বদলে চোখ’ থাকবে না। অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর কর্মীদের শিগগির তাদের কর্মস্থল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।


উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় এক হাজার ৯০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। হামলায় অন্তত ১২০টি জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবে এগোচ্ছে’, যে কারণে তিনি ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা আরও ১০ দিন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইরানের কর্মকর্তারা তার এ ভাষ্য উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ থামাতে ওয়াশিংটন যে প্রস্তাব দিয়েছে তা ‘একপেশে ও অন্যায্য’। এরপর তারা ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বীকৃতিসহ পাল্টা কিছু শর্তও দিয়েছে। শুক্রবার ইরানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনা চলার পাশাপাশি চলমান হামলা ‘অসহনীয়’।


এদিকে পাকিস্তান বলেছে, তারা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখছে। তুরস্ক এবং মিশরও মধ্যস্থতায় সহায়তা করছে। ফ্রান্সে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানে তাদের অভিযান ‘মাস নয়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই’ শেষ হবে।


হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচলে টোল আরোপে তেহরান যে পরিকল্পনা করছে তাকে ‘অবৈধ, অগ্রহণযোগ্য ও বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক’ বলেও অভিহিত করেন তিনি। ইরানের এমন পদক্ষেপের মোকাবেলায় জি৭ দেশগুলোর কাছ থেকে বিস্তৃত সমর্থন পাওয়ার কথাও রুবিও জানিয়েছেন। শুক্রবার আইআরজিসি বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা তিনটি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে। তারা বলে, শত্রুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বন্দর থেকে রওনা হওয়া কিংবা সেসব বন্দরগামী নৌযানের জন্য এ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page